কারখানার বিষে মরছে নদী! নরসিংদীর জনজীবন এখন হুমকির মুখে!

শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদী পরিবেষ্টিত নরসিংদী জেলা শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই শিল্পায়নের বিষাক্ত দিকটি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখানকার কল-কারখানাগুলোর বর্জ্য সরাসরি মিশে যাচ্ছে নদ-নদীগুলোতে, যার ফলে নরসিংদীর ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ, হাঁড়িধোয়া, পাহাড়িয়া, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীগুলো মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
এই দূষণের ফলে শুধু পরিবেশ-প্রতিবেশই হুমকির মুখে পড়েনি, বরং নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবনযাত্রাও আজ অনিশ্চয়তার মুখে। একসময়ের বাণিজ্যিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত এই নদীগুলোর নাব্যতাও কমে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, ‘রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার’-এর গবেষণায় নরসিংদীর হাঁড়িধোয়া নদী দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত নদীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। নদীর পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় শূন্য এবং ক্ষারত্বের পরিমাণ চারটি প্রধান।
বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে নদীতে মাছসহ কোনো জলজপ্রাণী বেঁচে থাকতে পারছে না। এমনকি হাঁড়িধোয়া নদীর পানি ব্যবহার করে অনেকে চর্মরোগসহ নানা মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শীতলক্ষ্যা নদীতেও শীতকালে মাছ মরে ভেসে উঠছে। স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই নদী রক্ষার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে। যদিও হাঁড়িধোয়া নদী দূষণ রোধে একটি বরাদ্দ দেওয়া হলেও, তা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে এখনও পৌঁছায়নি। অধিদপ্তর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও, এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা জরুরি।





