শিক্ষিকাকে লাথি মেরে চেয়ার ফেলে দিলেন নেতা! স্কুলে যা ঘটল বিশ্বাস হবে না!

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেই আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম সুজন একই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দিয়েছেন। আহত শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম বর্তমানে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। আমিনুল ইসলাম সুজন, যিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, তার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা রয়েছে। রবিবার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, আমিনুলের সঙ্গে স্থানীয় যুবদল নেতা সোহেল রানাও দলীয় কর্মীদের নিয়ে স্কুলে এসে এই তাণ্ডব চালায়।
জানা যায়, আমিনুল ইসলাম সুজন জাল সনদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে চাকরি করছিলেন। জাল সনদ ধরা পড়ায় ২০১৯ সালে তাকে বরখাস্ত করা হয়। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছে এবং প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কর্মস্থলে যোগ দেন। এরপর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। অবশেষে রবিবার সকালে আমিনুল ও সোহেল রানা, প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মী নিয়ে স্কুলে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার ওপর হামলা চালান।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম জানান, প্রায় ৬০-৭০ জন তার ওপর হামলা করে। তিনি একা কয়েকজনকে চিনতে পারছেন। তার ওপর হামলার জন্য মাহবুব চৌধুরী নামে একজন প্রথম হুকুম দেয়। এছাড়াও কয়েকজন সিসি ক্যামেরা ভেঙে দেয়। হামলাকারীরা তাকে চেয়ার থেকে লাথি মেরে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেয়, তার মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা কেড়ে নেয়।
এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম সুজন জানান, তিনি হাইকোর্টের রায়ের পর যোগ দিতে এসেছেন, কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা চেয়ার ছাড়ছেন না, তাই এই ঝামেলা হয়েছে। যুবদল নেতা সোহেল রানা বলেন, তিনি তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে স্কুলে গিয়েছিলেন এবং তিনি কিছুই করেননি।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সেলিম আহমেদ জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান জানান, তিনি নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আমিনুলের কিছু কাগজপত্র দেখেছেন এবং শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। নারী শিক্ষিকার ওপর হামলার বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে জেনেছেন এবং পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম সুজন ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত বছর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং প্রায় এক মাস আগে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পান।





