জাতীয়

শিক্ষকদের নতুন দায়িত্ব! যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী, জানলে অবাক হবেন

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি বলেছেন, শিক্ষকরা হলেন জাতির ‘কায়রোপ্রাকটিক ডাক্তার’ যারা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তবে সেই মেরুদণ্ডকে সোজা রাখার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। রোববার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, আগামীর বাংলাদেশ গঠন কোনো একক সরকারের এজেন্ডা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজেদের শিক্ষার্থীদের সন্তানতুল্য মনে করে তাদের গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রিতা একটি বড় সমস্যা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ করলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো জনকল্যানে অথচ পাবলিক পরীক্ষা পরের বছরের এপ্রিল ও জুন মাসে নিয়ে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ে বড় ক্ষতির কারণ। এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মন্ত্রী নির্দেশ দেন, প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকে যেন লিখিতভাবে তাদের সুপারিশ জমা দেন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও উন্নত করা যাবে। শিক্ষকদের মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী শিক্ষা খাতকে ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রতিটি ভালো ফলাফল সাদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত, যা শিক্ষককে দীর্ঘ মেয়াদে উপকৃত করে। শিক্ষকদের এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী। দেশের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষকদের সম্মিলিত ও গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অতীতের সীমাবদ্ধতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সকলকে আগামীর উন্নত বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নতুন জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button