আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে এই ৪ কারণে! যা জানলে চমকে উঠবেন

পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সকল চেষ্টা সত্ত্বেও ইরান যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় ইরানের বিজয়ের পেছনে কাজ করছে চারটি প্রধান কারণ। দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রথমত, যেকোনো মূল্যে টিকে থাকাটাই ইরানের জন্য এখন বড় বিজয়। দেশটির শাসনব্যবস্থা এখনও অটুট রয়েছে, এবং রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কার্যত দেশটির নিয়ন্তা। লাখ লাখ মার্কিন সেনা স্থল অভিযান না চালালে, কোনো গণঅভ্যুত্থান দিয়ে এই সরকারের পতন সম্ভব নয়। এমনকি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও এখন ইরানের পতন নয়, বরং একটি পর্দার আড়ালের চুক্তির পথ খুঁজছেন। কারণ, ইরান টিকে থাকলেই তা তাদের জন্য এক বিরাট রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।

দ্বিতীয়ত, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে। দেশটি বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতির কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধের ময়দানে ইরানকে একটি শক্তিশালী দর-কষাকষির হাতিয়ার এনে দিয়েছে।

তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের জন্য নতুন আয়ের উৎস তৈরি করেছে। দেশটি এখন নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে। চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো তাদের তেলবাহী জাহাজ পারাপারের জন্য ইরানকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিচ্ছে। ট্রাম্প এখন এই প্রণালী ‘যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার প্রস্তাব দিচ্ছেন, যা ইরানের জন্য এক অভাবনীয় সুযোগ। পূর্বে যেখান থেকে ইরান কিছুই পেত না, সেখান থেকেই এখন তারা বিশাল রাজস্ব আয়ের স্বপ্ন দেখছে।

চতুর্থত, যদি ইরান এই যুদ্ধে টিকে থাকে এবং হরমুজ প্রণালী থেকে নতুন আয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তবে তারা তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা পুনরায় তৈরি করতে পারবে। যদিও এই সক্ষমতা ফিরে পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, ততদিনে হয়তো ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন না। তখন ইরান আরও শক্তিশালী রূপে ফিরে আসবে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button