বিএনপি

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অফিসে এনে যা করল যুবদল নেতা! জানলে শিহরিত হবেন

নোয়াখালীতে ছাত্রদলের ৮ জন নেতাকর্মীকে যুবদল নেতার অফিসে অবরুদ্ধ করে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার গভীর রাতে পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সুধারাম মডেল থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্দেশ্যে বাংলাবাজার এলাকায় যাওয়ার পর তারা সজীব নামে একজনের আমন্ত্রণে শামু ব্যাপারীর বাজারে একটি দোকানে চা খেতে যান। সেখানেই স্থানীয় শ্রমিক দলের সোহেল তাদের জোরপূর্বক ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সেলিমের অফিসে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।

সংবাদ পেয়ে ইউনিয়ন ছাত্রদল-যুবদলসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম (ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি), নূর মোহাম্মদ ও মাসুদুর রহমান (ইউনিয়ন যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক) ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর শেখ সেলিম ও ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি রুহুল আমিন বাহাদুরকে খবর দেওয়া হয়। পরে জাহাঙ্গীরকে সেলিমের অফিস থেকে ডেকে নিয়ে যান বাহাদুর। এ সময় হেলমেট ও মুখোশ পরা ২৫-৩০ জনের এক সশস্ত্র দল সেলিমের অফিসে প্রবেশ করে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেয় এবং অবরুদ্ধদের নির্জন স্থানে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে হাত-পা-চোখ বেঁধে লোহার রড, চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ রাত প্রায় ১২টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতদের অভিযোগ, আন্ডারচর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ সেলিম, মো. সোহেল, রুহুল আমিন ও মামুন মেম্বারের ইন্ধনেই এই হামলা চালানো হয়েছে, যা ছিল পরিকল্পিত এবং হত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তারা সুষ্ঠু বিচার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সোহেল দাবি করেন, তিনি মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন এবং হামলার সাথে জড়িত নন। শেখ সেলিম এটিকে দলীয় অফিস বলে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রুহুল আমিন বাহাদুর বলেন, এলাকাবাসী তাদের আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে এবং তিনি তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button