ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ণের অভিযোগ: ঢাকা-১৩’র ফলাফল বাতিল চেয়ে ৬ দফা দাবি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শেরেবাংলা নগর) আসনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটি অভিযোগ করেছে, এই আসনে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ঘটেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ এই ঘোষণা দেন। নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন ঢাকা-১৩ আসনে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা হয় এবং তাদের প্রার্থী ও এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, বিভিন্ন কেন্দ্রে রিকশা প্রতীকের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলটির আমির ও প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক একটি কেন্দ্রে অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েন এবং পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় সেখান থেকে বের হতে বাধ্য হন।
ভোট গণনার সময় ‘টেম্পারিং’ ও ‘ওভাররাইটিং’-এর মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীকের ভোট অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো এবং রিকশা প্রতীকের বহু বৈধ ভোট বাতিল করার গুরুতর অভিযোগও তোলে দলটি। অভিযোগ নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই গেজেট প্রকাশ করাকে তারা ভোটারদের অধিকারের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এছাড়া, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে আহত হায়দার আলীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়। মোহাম্মদপুরে জুলাই হত্যা মামলার সাক্ষী ইব্রাহিম খলিলের ওপর হামলার অভিযোগ এনে সাক্ষীদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়। দলটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় যে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় তাদের সমর্থকদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।
খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফল বাতিল ও নিরপেক্ষ তদন্ত; নির্বাচনী অনিয়ম এবং হায়দার আলীর মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত; ইব্রাহিম খলিলের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি; সারাদেশে নির্বাচনী অনিয়ম তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন; রাজনৈতিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধ করা এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতার বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে জালালুদ্দীন আহমদ জোর দিয়ে বলেন, ‘ঢাকা-১৩ কেবল একটি আসন নয়; এটি জনগণের ভোটাধিকার এবং গণবিশ্বাসের প্রশ্ন।’ এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।





