ঘুণ ধরছে প্রিয় আসবাবপত্রে? যা জানলে অবাক হবেন!

আপনার প্রিয় সেগুন বা মেহগনি কাঠের আসবাবপত্র কি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে? সঠিক যত্নের অভাবে ঘুণপোকার আক্রমণ আপনার শখের জিনিসগুলোকে পরিণত করতে পারে মূল্যহীন বস্তুতে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই সমস্যা বেড়ে যায়। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ঘুণপোকা ডিম পাড়ে এবং কাঠের গভীরে বাসা তৈরি করে। ফলে আপনার মূল্যবান আসবাব ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে শুরু করে।
মূলত, সেগুন ও মেহগনি কাঠের আসবাব অনেকের বাড়িতেই দেখা যায়। এই আসবাবগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। অবহেলা করলে বা ঠিকমতো যত্ন না নিলে কাঠের ভেতরে ঘুণ তৈরি হতে শুরু করে। ঘুণপোকা কাঠের ভেতরেই তাদের বংশবৃদ্ধি করে এবং এর ফলে আসবাবের কদর কমতে থাকে।
বিশেষ করে বর্ষাকালে কাঠের আসবাবপত্রের অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয়। এ সময় ঘুণপোকা ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ডিম পাড়তে ভালোবাসে। তাই সব সময় আসবাব শুকনো রাখা আবশ্যক। বৃষ্টি হলে আরো বেশি সতর্ক থাকুন। যদি কোনো কারণে আসবাবপত্রে পানি লাগে, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলতে হবে। ভেজা কাপড় দিয়ে কখনো আসবাব পরিষ্কার করবেন না; সবসময় শুকনো সুতির কাপড় ব্যবহার করুন।
আসবাবপত্রে কোনো ছোট ছিদ্র লক্ষ্য করলে তা মোম বা গালা দিয়ে ভরাট করে নিন। কারণ, এসব ছিদ্রপথেই ঘুণপোকা প্রবেশ করে ডিম পাড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত আসবাবপত্রে একবার বার্নিশ বা রঙের প্রলেপ করিয়ে নিলে ভালো। এই রঙের উগ্র গন্ধে পোকা দূরে থাকে। এছাড়া, নিম তেল যেকোনো পোকামাকড়ের উপদ্রব কমাতে দারুণ কার্যকর। পোকামাকড়ের উৎপাত বেশি হলে সপ্তাহে তিন দিন নিম তেল স্প্রে করে মুছে ফেলতে পারেন। নারকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় লাগালেও উপকার পাওয়া যায়। ঘন করে তৈরি করা দুধ-চিনি ছাড়া চায়ের লিকারের সাথে কয়েক ফোঁটা ভিনেগার মিশিয়ে ঘুণ ধরা অংশে লাগালে তা পোকা তাড়াতে সাহায্য করে।
যদি কোনো আসবাবপত্রে ঘুণ ধরে, তবে সেটিকে বাকি আসবাব থেকে আলাদা করে রাখুন। তবে ঘুণ ধরেছে মানেই যে আসবাবটি ফেলে দিতে হবে, এমনটা নয়। ঘুণ ধরা অংশটি পরিষ্কার করে কাঠমিস্ত্রি দিয়ে মেরামত করিয়ে নিলেই হবে।





