রংপুর বিভাগ

ইতিহাসের সাক্ষী নিদাড়িয়া মসজিদ বিলুপ্তির পথে, সংস্কারের অভাবে ভাঙছে ছাদ!

লালমনিরহাটের ঐতিহাসিক নিদাড়িয়া মসজিদ এক ঐতিহাসিক নিদর্শনের সাক্ষী হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি আজ অস্তিত্ব সংকটে। মুঘল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই প্রাচীন তিন গম্বুজবিশিষ্ট স্থাপনাটি পৌনে তিন শতাব্দী পুরোনো। যদিও এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তালিকাভুক্ত, তবুও সংস্কারের অভাবে এর কাঠামো আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার ও দখলমুক্ত করা না হলে উত্তরাঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী পুরাকীর্তিটি চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।

ইতিহাস ও জনশ্রুতি অনুযায়ী, মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন সুবেদার মনছুর খাঁ। তাঁর মুখে দাড়ি না থাকায় তিনি আল্লাহর কাছে মান্নত করেছিলেন যে দাড়ি গজালে একটি মসজিদ নির্মাণ করবেন। মান্নত পূরণ হওয়ার পর ১১৭৬ হিজরিতে তিনি এই তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি নির্মাণ করেন। ফারসি ভাষায় ‘নিদাড়িয়া’ অর্থ দাড়িহীন, সেই থেকেই এই নামকরণ।

বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। প্রায় ৪২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থের এই এক কক্ষবিশিষ্ট মসজিদের উপরিভাগে তিনটি গম্বুজ, চার কোনায় চারটি পিলার এবং সামনে একটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। বাম পাশে একটি দোচালা ঘরও রয়েছে, যা আগে স্টোররুম বা ইমামের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হত বলে ধারণা করা হয়। মসজিদের সামনে একটি বড় ঈদগাহ এবং উত্তর-পূর্ব কোনে একটি কবরস্থানও বিদ্যমান। উত্তর দিকে ২০১৯ সালে একটি হাফিজিয়া মাদরাসা স্থাপন করা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদের নামে প্রায় ১০ একর ৫৬ শতক জমি দান করা হয়েছিল, যা থেকে প্রাপ্ত অর্থে প্রতিবছর ওয়াজ মাহফিল আয়োজিত হয়। তবে, দুঃখজনকভাবে, জমির কিছু অংশ বর্তমানে বেদখল হয়ে গেছে এবং তা পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মসজিদটির ছাদ ফাটল ধরেছে এবং কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অনুমতি ছাড়া সংস্কার করাও সম্ভব নয়।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক নিদাড়িয়া মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তালিকাভুক্ত এবং এর সংস্কার ও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর মতে, সঠিক সংরক্ষণ ও দখলমুক্ত করা গেলে এই মসজিদটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button