রমজানে পর্যটন বন্ধ? বান্দরবানে যা ঘটল জানলে চমকে যাবেন!

পাহাড়, মেঘ আর সবুজ প্রকৃতির অপূর্ব সমন্বয়ে গড়া বান্দরবান দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। শীত মৌসুমে এখানকার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়, যা ব্যবসায়ীদের জন্য নিয়ে আসে বাড়তি মুনাফা। কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে রমজান মাস শুরু হতেই পাল্টে যায় সেই চিরচেনা দৃশ্য। পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পর্যটন কেন্দ্রগুলো হয়ে পড়ে অনেকটাই নিরিবিলি।
এই নিরিবিলি সময়টাকে কাজে লাগিয়ে বসে নেই বান্দরবানের ব্যবসায়ীরা। পর্যটক কম থাকায় এই সময়ে হোটেল-রিসোর্টগুলোতে চলে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। ঈদের ছুটি ও আসন্ন পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে অনেক রিসোর্টকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে, কোথাও দেওয়া হচ্ছে নতুন রঙের প্রলেপ, আবার কোথাও যুক্ত করা হচ্ছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এর মূল লক্ষ্য হলো পর্যটকদের জন্য আরো আরামদায়ক ও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করা।
বান্দরবান হোটেল-মোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জানান, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মধ্যবর্তী সময়ে ভালো ব্যবসা হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। হলিডে ইন ও ইকোসেন্স রিসোর্টের মালিক জাকির হোসেন জানান, শীত মৌসুমে ভালো সাড়া পাওয়া গেলেও, রমজানে অতিথি কম থাকায় এই সময়টাকে তারা হোটেল-রিসোর্টগুলোর মেইনটেন্যান্সের কাজে ব্যবহার করেছেন।
স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তারা মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটনের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ খাতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। বিদেশ ভ্রমণের প্রবণতা বাড়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দেশের পর্যটন স্পটগুলোকে জাগিয়ে তোলা জরুরি। তারা মনে করেন, নবনির্বাচিত সরকার এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
বান্দরবানে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের অন্যতম বড় বাধা আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডিংয়ের অভাব এবং জটিল ভিসানীতি। তবে নতুন সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি পর্যটন খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে আন্তর্জাতিক মানের হোম-স্টে ও ইকো-রিসোর্ট গড়ে উঠলে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং স্থানীয় হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতি বিশ্ব দরবারে পরিচিতি পাবে। রমজান শেষে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় এই পাহাড়কন্যা আবারও মুখরিত হবে—এমনই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।





