নতুন নিয়মেও খরা কাটছে না! বিনিয়োগকারীদের জন্য দুঃসংবাদ

পুঁজিবাজারে নতুন আইপিও বিধিমালা কার্যকর হলেও সহসাই নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা নেই। এতে দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা আইপিও খরা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিনিয়োগকারীদের আরও প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে নতুন কোম্পানির শেয়ারের জন্য।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, আইপিও আবেদনের জন্য কোম্পানির প্রসপেক্টাসে দেওয়া নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ১২০ দিনের বেশি পুরনো হওয়া চলবে না। পাশাপাশি, শুধু অর্ধবার্ষিক বা প্রান্তিক সময়ের প্রতিবেদন দিয়ে আইপিও আবেদনের সুযোগ থাকছে না। আয়কর পরিপত্র অনুযায়ী, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব বছর ৩১ ডিসেম্বর শেষ হলেও অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ জুন শেষ হয়। বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নিজস্ব হিসাব বছর অনুসরণ করতে পারবে।
এ অবস্থায়, যেসব ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর হিসাব বছর শেষ হয়েছে, তারা চলতি বছরের এপ্রিলের মধ্যে আবেদনের সুযোগ পেয়েছিল। অন্যদিকে, মার্চে হিসাব বছর শেষ হওয়া বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য জুলাই পর্যন্ত সময় ছিল। তবে বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান আর্থিক অবস্থায় ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আইপিওতে আসার সম্ভাবনা কম। তালিকাভুক্তির জন্য মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা এবং আবেদনের সময় লোকসানে না থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রিনফিল্ড কোম্পানির জন্য এই শর্তে ছাড় থাকলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তাদেরও সাড়া মিলবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই এবং তারা সাধারণত আগ্রহীও থাকে না। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কিছু নির্দেশনা এসেছিল, তবে নানা জটিলতায় তা কার্যকর হয়নি। ফলে, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অনাগ্রহের কারণে আগামী ৩০ জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোরই আইপিওতে আসার ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে।
জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলো সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে আবেদন জমা দিতে পারবে। এরপর বিএসইসি (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) অনুমোদন দিতে সময় নেয়। নতুন বিধিমালায় স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চলতি বছরে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি ও লেনদেন শুরুর সম্ভাবনা খুবই কম। এমনটি হলে, ২০২৬ সালেও শেয়ারবাজারে নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়ার নজির সৃষ্টি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে পাঁচটি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছিল, যার সর্বশেষটি ছিল টেকনো ড্রাগ; এরপর আর কোনো নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি।





