রাজশাহী বিভাগ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যেন শিশুর মৃত্যুকূপ! আইসিইউ সংকটে প্রাণ হারাল ৬২ শিশু, খুলছে না বিশেষায়িত হাসপাতাল

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট) সুবিধার অভাবে গত আড়াই মাসে অন্তত ৬২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেয়ে মারা গেছে ৫৩ জন, আর ভর্তি হওয়ার পর মারা গেছে ৯ জন। নিউমোনিয়া ও হামে আক্রান্ত শিশুরা এই মৃত্যুর শিকার হয়েছে সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগগুলো জটিল আকার ধারণ করলে শিশুর জীবন বাঁচাতে আইসিইউ অত্যন্ত জরুরি।

রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য আলাদা কোনো আইসিইউ বেড নেই। সাধারণ আইসিইউর সীমিত সংখ্যক বেড শিশুদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। ফলে অনেক শিশুকে আইসিইউর জন্য অপেক্ষা করতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। ওয়ার্ডে রোগীদের চরম ভিড়, একটি বেডে একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া এবং বেড না পেয়ে অনেককে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা চলছে। অক্সিজেনের জন্য অপেক্ষা ও চিকিৎসকদের ব্যস্ততা স্বজনদের মধ্যে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০০ শয্যার রাজশাহী শিশু হাসপাতালটি তিন বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এই বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু হলে রাজশাহীসহ আশপাশের জেলার অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা অনেক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১২ শয্যার আইসিইউটিতে রোগীর চাপ বেশি থাকায় এবং বেড খালি না হওয়ায় অপেক্ষমাণ তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। বিশেষ করে গত ১১ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে ২৮ জন শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা অবস্থায় মারা গেছে।

হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী দেখতে হচ্ছে। দুটি শিশু ইউনিটে ১৬০টি শয্যা থাকলেও সেখানে প্রায় ৭৫০ রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিদিন ৩৫-৪০ জন শিশুর নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। ৫০ শয্যার একটি নতুন আইসিইউ কমপ্লেক্স তৈরি হলেও জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে তা এখনো চালু করা যায়নি। দ্রুত এটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button