বিএনপি

সাফল্যের পর হঠাৎ কী ঘটল? প্রধানমন্ত্রির নতুন ঘোষণায় দেশজুড়ে তোলপাড়!

দেশের সাধারণ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ার পরই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। শাসক দলের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এই অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

July সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী, পরিষদ গঠন, ক্ষমতা ও কার্যপদ্ধতি সুনির্দিষ্ট করা ছিল। কিন্তু শাসক দলের এই অবস্থান দুটি প্রধান আপত্তিকে সামনে এনেছে। প্রথমত, ১৯৭২ সালের সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে এ ধরনের আদেশ জারির ক্ষমতা দেয় না বলে গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্বিতীয়ত, সংবিধান সংস্কার পরিষদের জন্য আলাদা নির্বাচন না হওয়ায় সংসদ সদস্যদের এই পরিষদের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নেই বলেও দাবি করা হচ্ছে।

এই আপত্তিগুলোর বৈধতা বিচার করতে গেলে সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি। যদিও ১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে সরাসরি এ ধরনের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, তবুও এ ঘটনাকে ‘সাংবিধানিক মুহূর্ত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর এমন নাগরিক সম্পৃক্ততা বিরল, যেখানে জনগণ রাষ্ট্রের কাঠামো, জবাবদিহি ও ক্ষমতার বণ্টন নিয়ে সরাসরি নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেছিল। এই ঘটনাকে জনগণের সরাসরি সার্বভৌম ক্ষমতা, অর্থাৎ ‘constituent power’-এর প্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংবিধানে এ ধরনের পরিষদের উল্লেখ না থাকায় এটি সংবিধানবহির্ভূত। কিন্তু July সনদে রাষ্ট্রের মূল নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, যা ‘মৌলিক কাঠামো’ পরিবর্তন করবে। প্রচলিত সংশোধন প্রক্রিয়ায় এটি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাই, যদি সংস্কার মৌলিক হয়, তবে তা জনগণের প্রত্যক্ষ সার্বভৌম ক্ষমতার আশ্রয় ছাড়া টেকসই হবে না।

যারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈধতা অস্বীকার করছেন, তারা একই সরকারের অধীনে হওয়া নির্বাচনকে মেনে নিচ্ছেন, কিন্তু গণভোটকে অস্বীকার করছেন, যা একটি স্ববিরোধী অবস্থান। এছাড়া, সংবিধান সংস্কারের জন্য পৃথক নির্বাচনের বাধ্যবাধকতাও সাংবিধানিক আইনে নেই। ভোটাররা জেনেশুনেই সংসদ সদস্যদের নির্বাচন করেছেন, এবং গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেছেন।

সংক্ষেপে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আপত্তির মূলে রয়েছে July-এর সাংবিধানিক বাস্তবতা মেনে নিতে অনীহা। যখন জনগণ রাষ্ট্রের কাঠামো নির্ধারণে এগিয়ে আসে, তখন বৈধতার উৎস সংবিধানের অনুচ্ছেদ থেকে জনগণের অভিপ্রায়ে স্থানান্তরিত হয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদ সেই ক্ষমতারই প্রকাশ, এবং একে অস্বীকার করা মানে জনগণের সার্বভৌমত্বকেই অস্বীকার করা।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button