শেষ পর্যন্ত যা ঘটল! বন্ধ্যত্ব নিরাময়ে বাংলাদেশি চিকিৎসকের চমকপ্রদ আবিষ্কার

বাংলাদেশের চিকিৎসক ড. আশরাফুন নাহার পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) বা অন্যান্য কারণে বন্ধ্যত্বে ভোগা নারীদের জন্য এক যুগান্তকারী সাফল্য এনেছেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় প্রজনন সহায়ক প্রযুক্তি ইন ভিট্রো ম্যাচুরেশন (IVM) এর একটি অত্যন্ত উপকারী দিক উন্মোচিত হয়েছে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ডিম্বাণুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পরিপূরকের ব্যবহার PCOS রোগীদের জন্য বিশেষভাবে আশার আলো দেখাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনে পরিচালিত এই গবেষণাটি সম্প্রতি আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের বার্ষিক বৈজ্ঞানিক কংগ্রেস ও এক্সপোতে উপস্থাপন করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, IVM পদ্ধতিতে হরমোন ইনজেকশন এবং এর সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি, যেমন ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম (OHSS) প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে নারীর শরীর থেকে অপরিণত ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে পরিপক্ক করা হয় এবং পরে তা নিষিক্ত করে স্থাপন করা হয়।
১৫ জন PCOS আক্রান্ত রোগীর ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ন্যূনতম হরমোন উদ্দীপনা বা কোনো উদ্দীপনা ছাড়াই ডিম্বাণু সংগ্রহ ও পরিপক্ক করা সম্ভব। এর ফলে PCOS রোগীদের জন্য IVM বর্তমানে একটি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই গবেষণার পর থেকে ১৫টি জীবিত শিশুর জন্ম হয়েছে এবং মোট ১৪টি IVM শিশুর জন্ম হয়েছে, যা বন্ধ্যত্ব নিরাময়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।





