সিলেট বিভাগ

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাত্রাপথে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু! সুনামগঞ্জে শোকের ছায়া

লিবিয়া থেকে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে গ্রিসের উপকূলে একটি নৌকায় ছয়দিন ধরে ভাসতে থাকা ১৮ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের দাবি, নিহতদের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি সিলেটের সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায়। এই ঘটনায় পুরো সুনামগঞ্জে শোকের মাতম বইছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, মানবপাচারের শিকার এই বাংলাদেশিরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক দালালচক্রের খপ্পরে পড়েন। স্থানীয়ভাবে ছাতক থানার দুলাল মিয়া ও তার ভাই বিল্লাল এই চক্রের হোতা বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রিসে অবস্থানরত বিল্লাল বিদেশ থেকে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন, আর দেশে থেকে দুলাল মিয়া যুবকদের ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। আমিনুর রহমান (৩৫) নামে একজন ১১ লাখ টাকার চুক্তিতে মানবপাচারকারীর মাধ্যমে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাকে তিন দিনের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর আশ্বাস দিলেও প্রায় তিন মাস লিবিয়ার বিভিন্ন গোপন আস্তানায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হয়।

জীবিত উদ্ধার হওয়া এক যাত্রী জানান, তাদের বড় জাহাজের পরিবর্তে ছোট প্লাস্টিক ও রাবারের বোটে তুলে দেওয়া হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় পথ হারিয়ে ছয়দিন ধরে খাবার ও পানীয় ছাড়াই তারা সমুদ্রে ভাসতে থাকেন। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঠান্ডা ও ক্লান্তিতে একে একে প্রাণ হারান অনেকে। পাচারকারীদের নির্দেশে লাশগুলো সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।

গতকাল শুক্রবার গ্রিসের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও উপকূলীয় রক্ষা বাহিনী ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ ক্রিটের কাছ থেকে ৪১ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানি এবং চাদের একজন নাগরিক রয়েছে। জানা যায়, রাবারের নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দরনগরী তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেয়। ছয়দিন ধরে খাবার ও পানীয় ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকায় এবং প্রতিকূল আবহাওয়া, খাদ্য ও পানির সংকটে মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দক্ষিণ সুদানের দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এলাকাবাসী দালাল সিন্ডিকেটের হোতাসহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ইউরোপে অভিবাসনের চেষ্টাকালে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা এই রুটের ভয়াবহতা তুলে ধরছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button