জাতীয়

ক্ষমতার লোভ উপেক্ষা করে যা বললেন কবি ফররুখ! চমকে যাবেন জানলে

কবি ফররুখ আহমদ কেবল একজন সাহিত্যিকই ছিলেন না, ছিলেন নীতি ও আদর্শের মূর্ত প্রতীক। লোভনীয় পুরস্কার ও ক্ষমতার হাতছানি উপেক্ষা করে তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল ছিলেন। তাঁর এই চারিত্রিক দৃঢ়তা আজও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।

‘একজন কবির ক্ষমতাদর্পীর কাছ থেকে নেওয়ার কিছুই নেই’—এই উক্তিটি ফররুখ আহমদের জীবনদর্শনকে ফুটিয়ে তোলে। তিনি প্রচলিত ধ্যানধারণা ও সামাজিক চাপকে অগ্রাহ্য করে নিজের আদর্শকে সমুন্নত রেখেছিলেন। দেশ-বিদেশের নানা লোভনীয় প্রাপ্তি, এমনকি ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’ ও ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’-এর মতো সম্মাননা প্রত্যাখ্যান করে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন ক্ষমতার চেয়ে সততা ও আদর্শের মূল্য অনেক বেশি।

কেন ফররুখ আহমদ এমন ছিলেন? তাঁর ভেতরের এই শক্তি কোথা থেকে আসত? এর উত্তর খুঁজতে হলে তাঁর ‘সিরাজাম মুনীরা’ কাব্যগ্রন্থটির গভীরে ডুব দিতে হবে। এই গ্রন্থে তিনি শুধু নিছক কবিতা লেখেননি, বরং তাঁর রচনায় ফুটে উঠেছে মানবতা, ন্যায় ও আদর্শের এক অনবদ্য চিত্র। সেখানে তিনি শুধু ইসলামি আদর্শের কথাই বলেননি, বরং বিশ্বজুড়ে অমানবিকতার বিরুদ্ধে এক মানবিক সভ্যতার স্বপ্ন দেখেছেন।

ফররুখ আহমদকে আমরা কেবল ‘ইসলামি রেনেসাঁর কবি’ হিসেবে সীমাবদ্ধ করে দেখতে পারি না। তাঁর কাব্যের মূল সুর হলো মানবতার জয়গান এবং সকল প্রকার শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান। তিনি তাঁর কাব্যের মাধ্যমে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরেছেন।

তাঁর এই মহান আদর্শ এবং মানবতার প্রতি গভীর ভালোবাসা তাঁকে সাধারণ কবিদের থেকে আলাদা করেছে। ‘সিরাজাম মুনীরা’ কেবল একটি কাব্যগ্রন্থ নয়, এটি আমাদের নতুন মানবিক সভ্যতা গড়ার পথনির্দেশিকা।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button