রাঙামাটিতে ভয়ংকর বিস্তার! সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে মাদক, প্রশাসন কি নীরব?

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত কোথাও মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। শহর থেকে শুরু করে গ্রামের গলি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশাসনের অপর্যাপ্ত উদ্যোগের কারণে এই পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। পর্যটন শহর রাঙামাটির সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার উপক্রম। এমন অবস্থায় জেলা পুলিশ মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাঙামাটির দশ উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নেই মাদক কারবার ও সেবন চলছে। বিশেষ করে রাঙামাটি শহরের পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। শহরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদকের আড্ডা, বেচাকেনা ও কারবারিদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দুই মেয়াদকালে এই সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মাদকের ব্যবহার ও কারবার নতুন মাত্রা পায়। অনেক সূত্র বলছে, এই সময়ে প্রশাসনের মধ্যে মাদকের ব্যাপারে এক ধরনের উদাসীনতা দেখা গেছে।
এলাকাবাসী ও বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই মাদক সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার কিছু সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীও এই ব্যবসায় জড়িত বলে জানা গেছে। এসব দুর্গম সীমান্ত এলাকা প্রায় অরক্ষিত থাকায় মাদক ও বিদেশি সিগারেট স্থানীয় কারবারিদের হাতে চলে আসছে। প্রশাসন গত দেড় বছরে কোটি টাকার অবৈধ সিগারেট ও গাঁজা উদ্ধার করেছে।
রাঙামাটি পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই মাদকের বেচাকেনা ও আড্ডা চলে। স্থানীয় তরুণ ও যুব সমাজ এতে জড়িয়ে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ প্রায়শই ছোটখাটো মাদক সেবনকারীদের আটক করলেও মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। মাঝেমধ্যে যারা ধরা পড়ে, তারাও আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসে।
তবে, সম্প্রতি জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। ঈদের পর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে অর্ধশতাধিক মাদক সেবনকারী, কারবারি ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি মাদক কারবারের প্রধান হোতাদের ধরার পরিকল্পনা চলছে। কোতোয়ালি থানার ওসি জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, রাঙামাটি শহরকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে পুলিশ বদ্ধপরিকর এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।





