শিক্ষাব্যবস্থার নৈতিক অবক্ষয়: সভাপতি বহিষ্কার, শিক্ষক বেতন বন্ধ!

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আজ এক গভীর নৈতিক সংকটে নিমজ্জিত। সম্প্রতি মিরপুরের এক স্কুলে প্রধান শিক্ষক এক ছাত্রকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই ছাত্র প্রভাবশালী নেতা হয়ে স্কুলে সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই বহিষ্কৃত শিক্ষককে বরখাস্ত করেন। এই ঘটনা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের একটি চিত্র তুলে ধরে।
বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো মানুষ তৈরির পরিবর্তে চতুর ও ধূর্ত ব্যক্তি তৈরির কারখানা হয়ে পড়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাসক বের হলেও প্রকৃত মানুষ বের হচ্ছে না। এই হতাশা থেকেই একজন কলামিস্ট তার মায়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে শিক্ষায় নৈতিকতার প্রসারের স্বপ্ন দেখেন। তিনি মানবসম্পদ ও মানবতার উন্নয়নের জন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (ইসলামি একাডেমি ত্রিশাল) প্রতিষ্ঠা করেন।
তবে, এই মহৎ উদ্যোগও বিতর্ক থেকে রেহাই পায়নি। প্রতিষ্ঠানের নামকরণে ‘ইসলাম’ শব্দটি থাকায় প্রতিক্রিয়াশীল মহল এটিকে জামায়াতের সঙ্গে ট্যাগ করে। যদিও প্রতিষ্ঠাতার মূল উদ্দেশ্য ছিল সকল ধর্মের মানুষের জন্য নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। বর্তমানে কলেজ শাখার শিক্ষকরা আট-নয় বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করছেন, যা অমানবিক।
দেশের এমন এক পরিস্থিতিতে, যেখানে সন্তান বাবা-মাকে হত্যা করছে, অনলাইন জুয়া ও মাদকের মতো আগ্রাসন সমাজের ভিত্তি নষ্ট করছে, সেখানে নৈতিক শিক্ষা অপরিহার্য। আইন অপরাধীকে শাস্তি দিতে পারলেও অপরাধ জন্ম নেওয়ার আগে আত্মিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে পরিবার, শিক্ষা, সমাজ ও ধর্ম। তাই, সমাজে নৈতিক শিক্ষাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এখন সময়ের দাবি।





