‘র’-এর ছক, ১/১১-এর অলিগলিতে কেSCAPE! মাসুদ উদ্দিনের বয়ানে চাঞ্চল্য

ওয়ান-ইলেভেন সরকারের অন্যতম পরিকল্পনাকারী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এখন ডিবি পুলিশের রিমান্ডে। গত কয়েকদিনের জিজ্ঞাসাবাদের পর এই সাবেক সেনधिकारी বেরিয়ে এনেছেন সেই সময়ের অনেক অন্ধকার অধ্যায়। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, রিমান্ডে তিনি জানিয়েছেন, বিতর্কিত ওয়ান-ইলেভেন সরকার গঠনে মূল পরিকল্পনা এসেছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ থেকে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সেসময় ডিজিএফআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও ব্যবহার করা হয়। ভারতীয় সংস্থাটি ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ দিকেই এই পরিকল্পনা শুরু করে। তাদের যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘ আবাসিক কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ব সংস্থার নামে ভুয়া চিঠিও তৈরি করা হয়।
এ বিষয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, বিএনপি সরকারের শেষ দিকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন মোড়ে জামায়াত-শিবিরের চারজন নেতাকর্মীকে হত্যার পেছনে ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্ন ধরনের সরকার গঠনের ভারতীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘের তৎকালীন আবাসিক প্রতিনিধিকে প্রভাবিত করে ভুয়া চিঠি তৈরি করা হয়। সে সময় দেশে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন বিএনপির নিয়োগ দেওয়াthen সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদ এবং সাভারের ৯ম ডিভিশনের জিওসি মাসুদ উদ্দিন। তিনি এ ঘটনার পেছনে কর্নেল (অব.) অলির যোগসাজশ থাকার কথাও দাবি করেন।
মাসুদের বিরুদ্ধে শুধু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রই নয়, হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে তিনি একটি বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। ‘ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ও তার সহযোগীরা প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচারের মামলা দায়ের হয়েছে। তবে এসব প্রশ্নের জবাবে তিনি হয় এড়িয়ে যাচ্ছেন, নয়তো অপ্রাসঙ্গিক কথা বলছেন।
এছাড়াও, জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে মহিপালে ১১ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাগুলোর অন্যতম প্রধান আসামি তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও ফেনীতে অন্তত ১১টি মামলা হয়েছে। ক্ষমতার দাপটে একসময় নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে করলেও, এখন তিনি আইনি জালে আটকা পড়েছেন। আদালত প্রাঙ্গণে তাকে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা যেভাবে তার ওপর ময়লা পানি ও পোড়া মবিল নিক্ষেপ করে, তা জনমনে তার প্রতি জমা হওয়া ক্ষোভেরই প্রতিফলন।





