আন্তর্জাতিক

ইরানের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা! যা ঘটল রাতে… জানলে চমকে উঠবেন!

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের এক মাস পার হলেও যুদ্ধ থামেনি। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার আবহে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। একই দিনে তেহরানও পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত হানে। যুদ্ধের প্রথম দিন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার চেষ্টা করেও ইরানি শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা যায়নি। বরং জাতীয় স্বার্থে সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয় সমালোচকরাও। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়।

যুদ্ধ এক মাস পেরিয়ে গেলেও ইরান সমানতালে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ইসরাইলে হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইরান, যা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিন প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, যদিও ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১,৯৩৭ জন নিহত ও প্রায় ২৫,০০০ আহত হয়েছেন। লেবাননে নিহত হয়েছেন ১,১১৬ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৩,২০০। ইসরাইলে ১৯ জন নিহত ও প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আহত হয়েছেন, আর মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা ১৩ এবং আহত হয়েছেন ২০০। এছাড়াও ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সৌদি আরব, ফিলিস্তিন, সিরিয়া এবং কুয়েতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

কৌশলগতভাবে ইরান এগিয়ে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখায় ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের সরকার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দৃঢ়তা দেখিয়েছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা বিভিন্ন পর্যায়ে অর্পণ করার মাধ্যমে শক্তিশালী বিমান হামলার মুখেও টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

এদিকে, ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২৫০ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন এবং ৭২৩টি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশজুড়ে ৬০০টিরও বেশি স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ৯২ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা, যার মধ্যে রয়েছে আবাসিক ইউনিট, বাণিজ্যিক স্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৭টি রেড ক্রিসেন্ট কেন্দ্র, ৪৬টি অ্যাম্বুলেন্স এবং তিনটি ত্রাণবাহী হেলিকপ্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে যে তারা ইরানের ১০ হাজারের বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের নৌবাহিনীর ৯২ শতাংশ জাহাজ ধ্বংস করেছে। ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই আমেরিকা ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১০ দিনের জন্য ইরানের জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, যা তেহরানের অনুরোধে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে, যুদ্ধ থামাতে আমেরিকার প্রস্তাবকে ‘একতরফা ও অন্যায্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। জার্মানি অভিযোগ করেছে যে রাশিয়া ইরানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সহায়তা করছে, যা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধকে বিশ্বের নজর সরাতেই ব্যবহার করার একটি কৌশল।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button