আমেরিকায় ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে তরুণ-প্রবীণদের মধ্যে তুঘলকি কাণ্ড! জানেন কি?

যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক অঙ্গনে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এক স্পষ্ট প্রজন্মের বিভাজন দেখা দিয়েছে। টেক্সাসের ডালাসের বাইরে এক সম্মেলনে তরুণ ও প্রবীণদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। তরুণ রক্ষণশীলদের অনেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানে হামলার সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা ও বিশ্বাসঘাতকতা অনুভব করছেন। তাদের মতে, যা তিনি পূর্বে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বলেছিলেন, তা থেকে সরে এসে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
অস্টিনের ২৫ বছর বয়সী বেনজামিন উইলিয়ামস বলেন, “আমরা নতুন করে যুদ্ধ চাইনি, চেয়েছিলাম প্রকৃত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি। এটা বিশ্বাসঘাতকতা মনে হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমার প্রজন্মের মানুষের জন্য ট্রাম্পের বক্তব্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” অনেক তরুণ সমর্থকই ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিন ও’ব্রায়েন বলেন, “সেনা পাঠানো হলে তা হবে চরম বিশ্বাসঘাতকতা, আমি এতে খুশি নই।” ইতিমধ্যেই প্রায় এক হাজার মার্কিন সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে, প্রবীণ রক্ষণশীলদের একটি বড় অংশ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, ইরানের হুমকির মুখে এটি ছিল বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। তারা ট্রাম্পকে এই পরিস্থিতিতে বিচক্ষণ প্রতিক্রিয়া দেখানোয় প্রশংসা করেছেন। ৭০ বছর বয়সী সাবেক প্রতিরক্ষা ঠিকাদার জো রোপার বলেন, “এটা ইরানের দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের জবাব, নতুন যুদ্ধ নয়।” একই সুরে ৬১ বছর বয়সী কেলি ফিলিপস বলেন, “নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এক জিনিস, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চাইলে বসে থাকা যায় না।”
প্রভাবশালী রক্ষণশীল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসনের মতো ব্যক্তিরা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। এছাড়াও, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেন্টার ফর কাউন্টারটেররিজমের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করে বলেছেন, ইরান দেশের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না। সিএপিসি চেয়ারম্যান ম্যাট শ্ল্যাপ বিভাজন স্বীকার করলেও বলেন, অনেকে এখনও ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখেন। পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী টিফানি ক্রিগার মনে করেন, এই যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের প্রতি তার সমর্থন কমে গেছে এবং এতে দল ভেঙে যাচ্ছে।





