আন্তর্জাতিক

ইরান সংঘাত: ট্রাম্পের ‘শেষ’ সিদ্ধান্ত, যা ঘটল রাতে…

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি এই যুদ্ধকে ‘ধীরে ধীরে শেষ করা’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। তবে সংঘাত নিরসনে ট্রাম্পের কৌশল এখনো অস্পষ্ট এবং তিনি একেকবার একেকরকম কথা বলছেন, যা প্রশাসনের ভেতরেও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প একদিকে একসঙ্গে দুটি কৌশল নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়ে দ্রুত শেষ করা অথবা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থল সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেয়, একই সাথে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের কাছে একটি নতুন ১৫-দফা শান্তি প্রস্তাব পেশ করে। এরপর বুধবার হোয়াইট হাউস ইরানকে ওই শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করার আহ্বান জানায়, একই সঙ্গে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে কঠোরতম হামলার হুমকিও দেয়। এর ফলে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে আরও বেশি বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরের অনেক কর্মকর্তার মতে, ট্রাম্পের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

ইরান অবশ্য মার্কিন শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান জোর দিয়ে বলেছে, কখন যুদ্ধ বন্ধ হবে এবং কোন শর্তে, তা তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে কোনো আলোচনা চলছে না এবং হরমুজ প্রণালী পশ্চিমা জাহাজগুলোর জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও ইরানের নেই। হরমুজ প্রণালীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিয়েও ওয়াশিংটনে অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস রফতানি হয়। সীমিত সংখ্যক স্থল সেনা পাঠিয়ে এই প্রণালীর ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ আনা যাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রিপাবলিকান পার্টির অনেক সদস্যই ইরানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, কারণ তারা কোনো সুস্পষ্ট কৌশল দেখতে পাচ্ছেন না।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button