ঘুমন্ত শিশুর মৃত্যু, ইরানে যা ঘটছে… জানলে আঁতকে উঠবেন!

গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় ইরানে বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে চালানো এসব হামলায় সাধারণ মানুষের জীবনযাপন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গত তিন সপ্তাহে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী দফায় দফায় আকাশপথে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যার ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটেছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্করা নন, প্রাণ হারিয়েছে তিন বছরের শিশু এইলমাহ্ বিল্কিও, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এনেছে।
ওষুধের দোকানে কাজ করা তরণী পারাশতেশ দাহাঘিন এবং নিজের বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ২৬ বছর বয়সী বেরিভান মোলানিও এসব হামলার শিকার হয়ে মারা গেছেন। বেরিভানের বাড়ির উল্টোদিকেই মন্ত্রীর বাসভবন ছিল, যা হামলার লক্ষ্যবস্তু হলেও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যার ১৫ শতাংশই শিশু। এছাড়া, মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ৪৮টি শিশু ও ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মারা গেছেন।
যুদ্ধের কারণে ইরানের অভ্যন্তর থেকে খুব কম তথ্যই বাইরে আসছে। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষেও হতাহতের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রেড ক্রস ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বেসামরিক নাগরিক ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ২০টিরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা হয়েছে এবং অন্তত নয়জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। চিকিৎসকরাও আহতদের সেবা দিতে গিয়ে চরম ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। সাধারণ মানুষের বসতি এলাকায় সরকারি ভবন থাকায় এবং বোমা আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি ইরানে সাধারণ মানুষের জীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানালেও হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।





