ঢাকা বিভাগ

এক রাতের বিভীষিকা! যা বের হলো পদ্মার তলে বাসের ভেতর থেকে

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মায় ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি নদী থেকে ওপরে তোলা হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে উদ্ধার অভিযান চলাকালে বাসটির ভেতর থেকে একের পর এক লাশ বের করে আনেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৫ জন মহিলা ও ২ জন শিশু রয়েছে।

উদ্ধারকৃত বাসের ভেতরে স্কুল ব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী ভেসে উঠতে দেখা যায়, যা ঘটনাস্থলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা করে। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পদ্মার পাড়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। রোকন নামের এক ব্যক্তি তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতির সন্ধানে এসে জানান, তার বন্ধু’র ছোট বোন ও তার জামাই রাজবাড়ী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। শরিফুল ইসলাম নামের আরেকজন তার ৭ বছরের ছেলে ও ১১ বছরের ভাগ্নের খোঁজ করছেন, যারা এখনও নিখোঁজ। তার স্ত্রী, মেয়ে ও ভাগ্নি সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও তারা পারেননি। নবীজ উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধ তার দুই নাতি-নাতনির জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

জানা যায়, ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিল এবং এটি কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেনের ভাষ্যমতে, বাসটি ৩ নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। তবে সোয়া পাঁচটার দিকে ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ফেরি পন্টুনে জোরে আঘাত করলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে আর কত মরদেহ উদ্ধার হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না পদ্মার পাড়ে অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button