যুদ্ধের মধ্যেই হঠাৎ ‘গোপন’ প্রস্তাব: মধ্যপ্রাচ্যে তোলপাড়!

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি ১৫ দফার প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরব নিউজের খবরে বলা হয়, বুধবার দুজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান প্রস্তাবটি এরইমধ্যে হাতে পেয়েছে। এই প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিতকরণ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তদারকি, ক্ষেপণাস্ত্র সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দেশটির সামরিক মুখপাত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিজের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাবে না।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। জানা গেছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের অন্তত এক হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে। এছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার মেরিন ও নৌসেনা মোতায়েনের প্রক্রিয়াও চলছে। একই সময়ে ইসরায়েল ইরানের ওপর নতুন করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে এবং ইরানও প্রতিদিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে; সৌদি আরব আটটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে এবং কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লেগেছে। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে ইরান, এমনকি নিরাপদ চলাচলের জন্য ফি আদায়ের কথাও স্বীকার করেছে তেহরান। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমলেও, তা এখনও যুদ্ধ শুরুর তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা চলার দাবি করলেও ইরান তা বারবার অস্বীকার করেছে। পরিস্থিতি ঘোলাটে হলেও পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা চাইলে শান্তি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত।





