হরমুজ প্রণালীতে চরম সংকট: বিশ্ব অর্থনীতিতে মহা বিপর্যয়ের আশঙ্কা!

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। বর্তমানে এটি ইরানের মাধ্যমে অবরুদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পশ্চিমা মিত্ররা জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই প্রণালিকে সুরক্ষিত করার পথ খুঁজছে, তবে তাদের সামনে লোহিত সাগরের তিক্ত অভিজ্ঞতা এক রূঢ় বাস্তবতা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে কয়েক বছর আগে শুরু করা একই ধরনের প্রচেষ্টায় শত শত কোটি ডলার খরচ হলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। লোহিত সাগরে চারটি জাহাজ ডুবি, ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র ব্যয় এবং জাহাজ শিল্পের সেই পথ এড়িয়ে চলার অভিজ্ঞতা এখন হরমুজ প্রণালির ওপর কালো ছায়া ফেলছে। ইরান, হুথিদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, এই প্রণালিতে হুমকি এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা তেলের দাম আকাশচুম্বী করে দিয়েছে। এটি ইতিহাসে তেল ও গ্যাস সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রণালিটি পুনরায় খুলে না দিলে জ্বালানি ঘাটতি আরও তীব্র হবে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দেবে। কুয়েত পেট্রোলিয়ামের সিইও শেখ নওয়াফ সৌদ আল-সাবাহ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির কোনো বিকল্প নেই এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বাস্তবতার নিরিখে এটি বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা প্রণালিটি রক্ষার জন্য প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং বাহরাইনের মতো কিছু দেশ সামরিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে কনভয় রক্ষা করা লোহিত সাগরের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। ইরানের সামরিক বাহিনী হুথিদের চেয়ে অনেক উন্নত এবং তাদের কাছে সস্তা ড্রোন, ভাসমান মাইন ও মিসাইলের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় উদ্বেগ, কারণ মুদ্রাস্ফীতিতে জর্জরিত মার্কিন ভোটাররা উচ্চ জ্বালানি মূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রপথটি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানির দাম কমবে না।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ইরানের উপকূলরেখা জাহাজের এত কাছে যে মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে ড্রোনের ঝাঁক আক্রমণ করতে পারে। যদি এই অভিযানে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে পুরো পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। যদিও সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন মাইন পরিষ্কার, সামরিক এসকর্ট এবং আকাশপথে টহল দেওয়ার মাধ্যমে যাতায়াত শুরু করা সম্ভব, তবে ইরানের হুমকির পুরোটা নির্মূল করতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। এই অচলাবস্থা বিশ্বের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





