আন্তর্জাতিক

ওমানে টানা বৃষ্টিতে ৪ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ অনেকে…

উপসাগরীয় দেশ ওমানে টানা দু’দিনের প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এতে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আল বাতিনাহ গভর্নরেটের বারকা উইলায়াত থেকে উদ্ধারকারী দল আরও দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে এবং প্রবল বর্ষণে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা চারজনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার রাতে জানা যায়, ওমানের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির তোড়ে ভেসে গিয়ে তিনজন মারা গেছেন এবং ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। দক্ষিণ আল বাতিনাহ গভর্নরেটের ওয়াদি আল মাউইলে তিনটি যানবাহন তীব্র স্রোতের মুখে পড়লে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকারী দল একজনকে জীবিত উদ্ধার করলেও, পরবর্তীতে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করে।

বন্যা পরিস্থিতি এবং রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় মাস্কাট ও আল বাতিনাহ উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জরুরি বিভাগ একাধিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। কর্তৃপক্ষ চালকদের প্লাবিত উপত্যকা (ওয়াদি) এড়িয়ে চলতে এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ, উপত্যকা ও নিচু এলাকায় বন্যার কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ওমানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখনও অস্থিতিশীল আবহাওয়া বিরাজ করছে, যার কারণে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি, প্রবল বাতাস এবং কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববারও উত্তর আশ শারকিয়াহ, দক্ষিণ আশ শারকিয়াহ, আল উস্তা, আদ দাখিলিয়াহ, আদ দাহিরাহ, দক্ষিণ আল বাতিনাহ এবং মাস্কাটজুড়ে বজ্রঝড় ও প্রবল বাতাস অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া ব্যবস্থা ‘নিম্নচাপ আল-মুসাররাত’-এর প্রভাব মোকাবিলায় ন্যাশনাল কমিটি ফর এমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের জরুরি কেন্দ্রগুলো সক্রিয় করেছে। বন্যা এবং অন্যান্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে, নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে এবং অনুমোদিত সূত্রের মাধ্যমে সর্বশেষ খবর জানতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য আবারও অনুরোধ করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কখন কাটবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button