জাতীয়

ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, ঝিনাইদহে কেড়ে নিল ৫ প্রাণ

ফেনী ও ঝিনাইদহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। রবিবার ভোরে ফেনীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে, শনিবার ঝিনাইদহের দুই উপজেলায় দুটি ভিন্ন দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ আরও ২ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ধারাবাহিক সড়ক দুর্ঘটনা জনমনে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামপুর লাতুমিয়া সড়কের থামায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় চট্টগ্রামমুখী একটি লেনের কাজ চলায় অ্যাম্বুলেন্সটি ধীর গতিতে পার হচ্ছিল। এ সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এর জেরে বাস ও অ্যাম্বুলেন্স চালকের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং পেছনে থাকা মোটরসাইকেল ও অন্যান্য বাসের জটলা তৈরি হয়। কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস সেই জটলার মধ্যে ঢুকে পড়লে ত্রিমুখী সংঘর্ষটি ঘটে। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের একজন আরোহী, বাসের একজন সুপারভাইজার এবং একজন যাত্রী নিহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ২-৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের লাশ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে, শনিবার ঝিনাইদহের দুই উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রসহ দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন তিনজন। পুলিশ জানায়, হরিণাকুন্ডু উপজেলার বাগআচড়া গ্রামের আব্দুল গফুর নামের এক স্কুলছাত্র ঈদের নামাজ পড়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হয়েছিল। দুপুরে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে নসিমন গাড়িতে করে ঝিনাইদহ জোহান পার্কে যাওয়ার পথে নগরবাথান বাজারে পৌঁছালে আব্দুল গফুর গাড়ি থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে রনি হোসেন বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হলে কেশবপুর গ্রামে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে রনিসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রনিকে মৃত ঘোষণা করেন। আরাপপুর হাইওয়ে থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনার এই ধারাবাহিকতা জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বারবার এমন মর্মান্তিক প্রাণহানি সড়কের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবি জানাচ

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button