ঢাকা বিভাগ

৯ মাস পর যা ঘটল ঘোড়াশালে! ফিরল আলো, স্বস্তি দেশজুড়ে

দীর্ঘ ৯ মাস বন্ধ থাকার পর দেশের অন্যতম বৃহৎ ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭নং ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন আবারও শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার (২০ মার্চ ২০২৬) দিবাগত রাত ২টা থেকে এই ইউনিটটি পুরোদমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মূলত গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৫ সালের ১৪ জুন থেকে ৭নং ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় শুক্রবার রাত থেকেই এই ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরেই ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্যাস সংকটে ভুগছে। সরকারের সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের অগ্রাধিকারের কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছিল না। এর ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালের ১৩ জুন থেকে ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৪নং ইউনিট, ৯ জুন থেকে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৫নং ইউনিট এবং ১৪ জুন থেকে ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭নং ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিকল্প উপায়ে গ্যাস সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদনও জানিয়েছিল।

এই ৭নং ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে ৩৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হলো, যা চলমান বিদ্যুৎ সংকটে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্যান্য ইউনিটগুলোর মধ্যে ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩নং ইউনিটের টারবাইনের ব্লেডে ত্রুটির কারণে মেরামত কাজ চলছে। ৪ ও ৫নং ইউনিট দুটি প্রস্তুত রয়েছে এবং পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ পেলে সেগুলোর উৎপাদনও চালু হবে। তবে, ২০১০ সালে আগুনে পুড়ে যাওয়া ৬নং ইউনিট এবং বারবার যান্ত্রিক সমস্যার কারণে গত ৯ বছর ধরে বন্ধ থাকা ১৯৬৭ সালের ১নং ও ১৯৭৬ সালের ২নং ইউনিট দুটি ভেঙে নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চ্যালেঞ্জের মুখে থাকবে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button