বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্বস্তি? তবে সামনেই চরম বিপদ! জানলে আঁতকে উঠবেন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ০.৬% কমে ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারে এবং মার্কিন মানদণ্ড ডব্লিউটিআই ১.১% কমে ৯৪.৬ ডলারে নেমেছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকা এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কারণে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সাময়িক এই পতন সত্ত্বেও বাজার বিশ্লেষকরা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আভাস দিচ্ছেন। বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, জ্বালানি সরবরাহে এই বিঘ্ন ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তাদের মতে, বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতির কারণে দীর্ঘ মেয়াদে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরেই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পরিস্থিতি খারাপ হলে ২০০৮ সালের রেকর্ড ১৪৭ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে তেলের দাম।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হয়, যা গত ১৯ দিন ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র রাস লাফানে হামলার ফলে দেশটির এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতা ১৭% কমে গেছে, যা সরাসরি ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাগরিকদের আশ্বস্ত করলেও, মাঠপর্যায়ে সংঘাত থামার লক্ষণ নেই।
যদি এপ্রিলের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে, তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দাম ৭০ ডলারের ঘরে নামতে পারে। অন্যথায়, বিশ্বকে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমূল্যের জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।





