আন্তর্জাতিক

ইরানে চরম বদল আসছে: দুঃস্বপ্ন দেখছে ইসরাইল!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান ঘিরে নতুন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)। তাদের মূল্যায়নে উঠে এসেছে, বর্তমান সংঘাতের অবসানের পর ইরানে আগের চেয়েও কট্টরপন্থী ও পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী একটি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

আইডিএফ সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি কোনো সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস নয়, বরং যুদ্ধের এই সংবেদনশীল পর্যায়ে বিভিন্ন সম্ভাব্য ফলাফলের একটি সৎ মূল্যায়ন। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা সম্ভব হবে কিনা, সে বিষয়ে সন্দিহান আইডিএফ। প্রাথমিকভাবে ইসরাইলি বিমান বাহিনী ইরানের শীর্ষ নেতা, আকাশ প্রতিরক্ষা ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালালেও, এখন তাদের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আইআরজিসি, বাসিজ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের কমান্ড কেন্দ্রগুলোর দিকে। এগুলোকে অভ্যন্তরীণ বিরোধী দমনের মূল হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়।

তবে ইসরাইলের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে ইসফাহান ও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। আইডিএফের মতে, মার্কিন সর্বাধুনিক বাংকার ব্লাস্টার দিয়েও হয়তো এটি ভেদ করা সম্ভব নয়। এই পারমাণবিক হুমকি যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই মোকাবিলা করা হবে কিনা, তা নিশ্চিত করেনি ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এদিকে, ইরানের নতুন সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে। মোজতবা খামেনিকে তার বাবার চেয়েও বেশি কট্টর এবং পশ্চিম ও ইসরাইলবিরোধী হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইসাথে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের পদে আসার আলোচনায় থাকা সাঈদ জালিলিকেও পূর্বসূরির চেয়ে বেশি চরমপন্থী মনে করা হচ্ছে। এই দুটি বিষয় মিলিয়ে ইসরাইলে একটি ‘দুঃস্বপ্নের পরিস্থিতি’ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানে এমন কট্টরপন্থী নেতৃত্ব এলে তারা পারমাণবিক অস্ত্রসহ যেকোনো অস্ত্র ব্যবহারে আরও বেশি উদ্যত হতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের অস্থিরতা বয়ে আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button