ব্রাজিলে নতুন আইন: অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ কঠিন হচ্ছে

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে চালু হওয়া এই আইনের মূল লক্ষ্য, শিশু-কিশোরদের সহিংস ও অবৈধ কনটেন্টের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
ইনস্টাগ্রামে নাবালকদের যৌন শোষণ-সংক্রান্ত একটি কেলেঙ্কারির পর গত বছর শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের আইন পাস হয়েছিল, যা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। এর ফলে, ২১ কোটি ২০ লাখ মানুষের এই সংযুক্ত দেশটি এখন বিশ্বের সেইসব দেশের কাতারে শামিল হলো যারা শিশুদের ওপর সামাজিক মাধ্যমের আসক্তিমূলক অ্যালগরিদমের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু দেশ শিশুদের সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে, আবার অনেক দেশে কঠোর বয়স যাচাই বা অভিভাবকের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট তাদের বৈধ অভিভাবকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে। এছাড়াও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে এমন কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে ১৮ বছরের কম বয়সীরা পর্নোগ্রাফিক বা সহিংস কনটেন্টে প্রবেশ করতে না পারে। আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ন্যাশনাল ডেটা প্রোটেকশন অথরিটি (এএনপিডি)-এর পরিচালক ইয়াগে মিওলা জানিয়েছেন, বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ‘স্ব-ঘোষণা’ পদ্ধতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কারণ এটি কার্যকর নয়।
গেতুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক রেনাতা তোমাজের মতে, ব্রাজিলের এই আইন শুধু সামাজিক মাধ্যম নয়, বরং পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থাকেই নিয়ন্ত্রণের আওতায় এনেছে, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় একটি ভিন্নধর্মী ও ব্যাপক উদ্যোগ।
তবে, এই বয়স যাচাই পদ্ধতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। মঙ্গলবার থেকে একটি ‘রূপান্তর পর্ব’ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে এএনপিডি প্রযুক্তিগত দিকগুলো স্পষ্ট করবে। নিয়ম ভঙ্গকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রায় ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা, অ্যাকাউন্ট স্থগিত বা বারবার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই নতুন নিয়মগুলো দেশের তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল সুরক্ষার বিষয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





