ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে ইরান: হরমুজে জাহাজ পাঠানোর সাহস আছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের নৌবাহিনী সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবি কঠোরভাবে নাকচ করে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে তেহরান। গত সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একজন মুখপাত্র ট্রাম্পের প্রতি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন, এর পরিণতি দেখার জন্য।
আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, যদি ট্রাম্পের ‘সাহস থাকে’, তবে তিনি যেন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তার জাহাজ পাঠান। নাইনি দৃঢ়ভাবে জানান, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে আইআরজিসি নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তিনি ইরানের নৌবাহিনীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছেন, যার জবাবে ইরান এই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল।
এই পাল্টাপাল্টি দাবি ও চ্যালেঞ্জ পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পার হয়। তাই এই অঞ্চলের যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যে এই নতুন চ্যালেঞ্জ অঞ্চলটিতে আরও বেশি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই সরাসরি হুমকির মুখে কী পদক্ষেপ নেয় এবং হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়।





