আন্তর্জাতিক

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৩৪ প্রাণহানি; বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

বুধবার ভোর থেকে লেবানন জুড়ে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এসব হামলা লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, পূর্ব লেবাননের বালবেক এলাকার তামাইন এল-তাহতা শহরে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালালে সেখানে একটি সিরীয় পরিবারের ১০ সদস্য নিহত হন। এই হামলায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এছাড়াও, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ শহরের মাহমুদ ফকিহ স্ট্রিটে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন এবং একই জেলার বিনতে জবাইলের সাফ আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় আরও তিনজন প্রাণ হারান।

টায়ার জেলার হানৌইয়েহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় একজন প্যারামেডিকসহ তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পূর্ব লেবাননের পশ্চিম বেকা অঞ্চলের জেলায়ায় এক হামলায় একজন নিহত ও দুইজন আহত হন। অন্যদিকে, টায়ার জেলার আল-হাউশ এলাকায় বোমা হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। কানা শহরে বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে এনএনএ নিশ্চিত করেছে। শারকিয়া এলাকায় একটি বাড়িতে হামলায় সেখানকার তিন যুবক নিহত হন। কাফারতাবনিত শহরে আরেকটি বিমান হামলায় একজন প্যারামেডিক প্রাণ হারিয়েছেন। হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত আল-মানার টিভি জানিয়েছে, টায়ারের চেহাবিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, রাজধানী বৈরুতের আইচা বাক্কার এলাকায় একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টেও ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওই হামলায় হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের টেবনাইন শহরে আরেকটি হামলায় চারজন আহত হয়েছেন।

এই ধারাবাহিক হামলা লেবাননের সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংঘাতের মধ্যে গত ২ মার্চ থেকে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়, যার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল ও তার মিত্র দেশগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই লেবাননে নতুন করে ব্যাপক হামলা হলো।

আঞ্চলিক সংঘাতের এই বিস্তার ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button