মাদারীপুরে খুনের বদলা: পুড়লো ২০ বাড়ি, উত্তেজনা তুঙ্গে

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক ব্যক্তি হত্যার পর মঙ্গলবার রাতে ব্যাপক সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নতুন মাদারীপুর এলাকায় প্রতিপক্ষের অন্তত ২০টি বসতবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আরও ২০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে নতুন মাদারীপুর এলাকায় সাবেক পৌর কাউন্সিলর আখতার হাওলাদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে গভীর রাতে আলমগীর হাওলাদারের সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালায়। তারা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লাবলু হাওলাদার ও হাসান মুন্সীর ঘরসহ অন্তত ২০টি বাড়িতে আগুন দেয় এবং ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে হামলাকারীরা ইট ও গাছ ফেলে এলাকার প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, নতুন মাদারীপুর এলাকায় মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার ও হাসান মুন্সীর গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে এলাকায় অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ শ্রমিক দলের কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষের সময় হাসান মুন্সীর ভাই সদর উপজেলা শ্রমিক দলের নেতা শাকিল মুন্সীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে আলমগীর হাওলাদার হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মাসুদ ব্যাপারী নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি আছে। এলাকাবাসী দ্রুত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।





