মিরপুরের উইকেট নিয়ে সুর বদল: পাকিস্তান কোচের নতুন কৌশল?

দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ সফরে এসে মিরপুরের উইকেট নিয়ে ভিন্ন সুর তুললেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন। একসময় এই উইকেটেরই ঘোর সমালোচক ছিলেন তিনি, যা নিয়ে ক্রিকেট মহলে কম জল ঘোলা হয়নি। তবে এবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি এটিকে ‘আগের চেয়ে ভালো’ এবং ‘ব্যাট-বলের দারুণ লড়াইয়ের উপযোগী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে শেষবার বাংলাদেশ সফরে এসে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান। সেই সময় মিরপুরের উইকেটকে খেলার অনুপযোগী বলে তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলেছিলেন কোচ হেসন। এবার অবশ্য ভিন্ন চিত্র। নিজের আগের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সবার কৌতূহল ছিল তার দিকেই। সেই কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে হেসন বলেছেন, ‘নির্দিষ্টভাবে এটা (উইকেট) দেখতে ভালো লেগেছে। দুর্ভাগ্যবশত তখন তেমন পিচ ছিল না। তবে বিপিএলে ভালো উইকেট ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘উইকেট ঘাসে ঢাকা ছিল। আশা করি, ব্যাট-বলের ভালো লড়াই হবে। আমার ধারণা, দুই পক্ষই ভালো সুবিধা পাবে। দুই দলই চাইবে উইকেটে ভালো ক্রিকেট হোক। আশা করি, চ্যালেঞ্জিং হবে।’ এমন উইকেটে বাংলাদেশকে হারানো সহজ হবে কি না, এমন প্রশ্নে হেসন জানান, ‘অবশ্যই আমরা পারব। আমরা বাংলাদেশকে তাদের কন্ডিশনে সম্মান করি। এখানে খানিকটা অনিয়মিত বাউন্স থাকে, তবে এখন অবশ্যই আগের থেকে ভালো উইকেট। দুই দলই চ্যালেঞ্জিং লড়াই করবে।’
এদিকে, লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের শক্তিমত্তা সম্পর্কে ওয়াকেবহাল মাইক হেসন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি ওয়ানডে সংস্করণে ম্যাচ খেলেছে এবং সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে। তরুণ দল নিয়ে এলেও বাংলাদেশ সফরে তারা প্রস্তুত জানিয়ে হেসন বলেন, ‘দারুণ একটা দল। আমাদের কিছু নতুন খেলোয়াড় আছে, যারা শাহীনদের হয়ে দারুণ খেলেছে। পরবর্তী পর্যায়ে ভালো খেলার মতো সামর্থ্যবান বলেই তারা সুযোগ পেয়েছে। এখানে আমাদের চ্যালেঞ্জ শুধুমাত্র মানিয়ে নেওয়া। একটা দল বাংলাদেশকে তাদের মাটিতে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত হয়েই এসেছে।’
বাবর আজমকে ছাড়া দল আসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হেসন এটিকে দলের অন্যদের জন্য দারুণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ‘যে কেউ দল থেকে বাদ পড়তে পারে। এটা আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ, অন্যদের দেখার জন্য।’
হেসনের এই ইতিবাচক মন্তব্য আসন্ন সিরিজকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন ব্যাট-বলের এক দারুণ লড়াইয়ের দিকে, যেখানে নতুন উইকেটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের তরুণ দল কেমন খেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





