খায়রুল হকের জামিন: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্ক কি ফের সামনে?

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার রায় জালিয়াতি এবং হত্যাসহ মোট চারটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। গত রোববার (৮ মার্চ) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই জামিন মঞ্জুর করেন।
এই জামিনের মধ্য দিয়ে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে চলা গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় একটি নতুন পর্যায় শুরু হলো। খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিলেন, যার ফলস্বরূপ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়। এরপর থেকে এই রায় নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলমান।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর হাইকোর্ট খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছিলেন। বর্তমানে দুদকের প্লট বরাদ্দের মামলা ছাড়া বাকি চারটি মামলার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে শাহবাগ ও নারায়ণগঞ্জে রায় জালিয়াতির অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। জনমনে এই ধরনের চাঞ্চল্যকর মামলার অগ্রগতি এবং প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির জামিনের বিষয়টি বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ ও অন্যান্য আইনজীবী।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দুদকের প্লট বরাদ্দের মামলা সংক্রান্ত জামিন রুল হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে এখনো শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এই জামিনের সিদ্ধান্তের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিতর্ক নতুন করে জনসমক্ষে আলোচনার কেন্দ্রে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সাধারণ মানুষ এই মামলার পরবর্তী ধাপ ও এর সামগ্রিক প্রভাবের দিকে তাকিয়ে আছে।





