গাঁজা সেবনের ফল! মাদ্রাসার ছাত্র খুন, আগুনে পোড়া দেহ উদ্ধার

গাজীপুরে গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় এক মাদ্রাসার শিশুছাত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে এক বখাটে কিশোর। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনা স্থানীয় জনমনে গভীর চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
নিহত শিশুছাত্রের নাম মাহাবুব ইসলাম রনি (১৩)। সে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার দৌলতপুর এলাকার সোহাগ মিয়ার ছেলে। রনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল। গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তের নাম ছাব্বির আহম্মেদ (১৯), সে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার নিজতুলন্দর গ্রামের বাসিন্দা।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ শেষে স্থানীয় মসজিদ থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয় রনি। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন স্থানীয় একটি জঙ্গলের ভেতরে রনির আগুনে পোড়া ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পান এলাকাবাসী। নিহতের মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত আগুনে ঝলসে গিয়েছিল। এ ঘটনায় রনির দাদা মো. তারা মিয়া বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআইও মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এর মাধ্যমেই ক্লুলেস এই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়।
পিবিআই’র পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার রাতে আসামী ছাব্বির আহম্মেদ ওই জঙ্গলে বসে গাঁজা সেবন করছিল। রনি তা দেখে ফেলে এবং অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। ছাব্বির একাধিকবার অনুরোধ করে রনিকে নিষেধ করলেও সে রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাব্বির পেছন দিক থেকে রনিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং ঘাড় মটকে গলা চেপে ধরে। ঘটনাস্থলেই রনির মৃত্যু হয়। এরপর ছাব্বির নিহতের লাশ ওই জঙ্গলের ভিতর আগুনে পুড়িয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।
মাদ্রাসার এক নিষ্পাপ ছাত্রকে এমন নির্মম পরিণতি ভোগ করতে হওয়ায় এলাকাবাসী স্তম্ভিত। এ ঘটনা সমাজে মাদকাসক্তি এবং এর ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ হবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছে জনতা। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।





