আন্তর্জাতিক

উপসাগরে জ্বালানি হামলায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, শঙ্কায় সাধারণ মানুষ

উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলার জেরে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এসব হামলার প্রেক্ষিতে কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ তাদের তেল ও গ্যাস উৎপাদন স্থগিত করায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। যদিও ইরান বারবার এসব হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর হামলার পর তেহরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ উঠেছে।

প্রাথমিকভাবে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ থাকলেও, উপসাগরীয় দেশগুলো জানিয়েছে যে পরবর্তীতে বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন হোটেল, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলার কারণে শুধু অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদনই ব্যাহত হয়নি, এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন প্লাস্টিক, পরিষ্কারক সামগ্রী ও বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যন্ত প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে, কাতারের এলএনজি উৎপাদন স্থগিতের কারণে বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর রাস তানুরা তেল শোধনাগার, যেখানে ড্রোন হামলার পর অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। এছাড়াও, বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদক কাতারএনার্জির রাস লাফান জ্বালানি স্থাপনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুসাফাহ জ্বালানি টার্মিনাল ও ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে ড্রোন হামলা হয়েছে। ওমানের দুকম ও সালালাহ বন্দরেও জ্বালানি ট্যাংক ও ট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এই হামলার জেরে হরমুজ প্রণালীও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হন্ডুরাসের পতাকাবাহী ‘অ্যাথি নোভা’ নামের একটি ট্যাংকার এই প্রণালীর কাছাকাছি আক্রান্ত হলে তাতে আগুন ধরে যায়। ইরান এর দায় স্বীকার করে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দেয়, যা বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়, যা এশিয়া ও ইউরোপের প্রধান বাজারগুলোতে সরবরাহ করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সবচেয়ে বড় উৎস। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক তেল এবং ৪০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ এই অঞ্চলে রয়েছে। এর ফলে এই অঞ্চলের যেকোনো অস্থিতিশীলতা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। ইসরায়েলের লেভিয়াথান ও তামার গ্যাসক্ষেত্রসহ ইরাকি কুর্দিস্তানের তেল ক্ষেত্রগুলো এবং দক্ষিণ ইরাকের রুমাইলা তেলক্ষেত্রও নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই অস্থিরতা চলতে থাকে, তাহলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দেবে। সবাই এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায়।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button