আন্তর্জাতিক

মোসাদের ভয়ঙ্কর কৌশল! খামেনিকে টার্গেট করা হলো যেভাবে…

সম্প্রতি ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর ঘটনার নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। জানা গেছে, এই হামলার আগে মোসাদ দীর্ঘ বছর ধরে তেহরানের ব্যাপক প্রযুক্তিগত নজরদারি চালিয়ে খামেনিকে টার্গেট করেছিল।

ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের সমস্ত ট্রাফিক সিগনালের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো বহু বছর আগে থেকেই ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এর মাধ্যমে তারা শহরের প্রতিটি রাস্তাঘাট, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের রুট, এমনকি গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান সম্পর্কেও নিখুঁত ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করত। বছরের পর বছর ধরে এই তথ্য বিশ্লেষণ করে মোসাদ নিশ্চিতভাবে জানত, কে কোন সময় কোন রাস্তা দিয়ে অফিসে যায় বা বাসায় ফেরে।

পাশাপাশি, ইরানের অধিকাংশ মোবাইল ফোনের টাওয়ারও মোসাদের হ্যাকিংয়ের আওতায় ছিল। এতে একদিকে যেমন মানুষের ফোনালাপে আড়ি পাতা সম্ভব হতো, তেমনি প্রয়োজন অনুযায়ী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণও করা যেত।

সিআইএর একজন মানব সম্পদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে এই প্রযুক্তিগত উপাত্ত মিলিয়ে মোসাদ নিশ্চিত হয় যে, নির্দিষ্ট দিনে খামেনি ঐ ভবনে একটি মিটিং করবেন। হামলার নির্ধারিত সময়ে তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভবনে প্রবেশ নিশ্চিত করে। এরপর ঐ এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়, যেখানে মানুষের ফোনে নেটওয়ার্ক সচল দেখালেও, কাউকে কল করলে ব্যস্ত বা বিজি শোনাতো। এর উদ্দেশ্য ছিল, যেন জরুরি অবস্থায় কেউ কোনো খবর জানাতে না পারে। সবকিছু নিশ্চিত করার পরেই তারা খামেনিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু করে।

এই ধরনের ব্যাপক হ্যাকিং কার্যক্রম কেবল ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে এমন কার্যক্রম চালায়। এক দশক আগেও জানা গিয়েছিল, ব্রাজিলের মতো দেশের পুরো পাওয়ার গ্রিড আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে, যা তারা যেকোনো মুহূর্তে ব্ল্যাক আউট করে দিতে পারে। ইরান নিজেও এই ধরনের পাল্টা হ্যাকিংয়ে পারদর্শী। ২০০২ সালে তারা মোসাদ পরিচালকের স্ত্রীর ফোন হ্যাক করে তথ্য প্রকাশ করেছিল, এবং গত বছর তেল আবিবের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কার্যকারিতা নিরীক্ষণ করেছিল।

এই ঘটনা সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত প্রযুক্তি, যেমন মোবাইল ফোন, ফেসবুক, টুইটার, চ্যাটজিপিটি, সিসিটিভি – সবকিছুই যে গোয়েন্দা নজরদারির হাতিয়ার হতে পারে, তা এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল। প্রযুক্তির এই অন্ধকার দিকটি আমাদের অজান্তেই ব্যক্তিগত পরিসরে আঘাত হানছে। বিলিয়নিয়ার প্রযুক্তি প্রস্তুতকারকদের সাথে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি এই দুশ্চিন্তাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। যদিও এর বিকল্প কী, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অসহায়ত্ব বিদ্যমান।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button