আন্তর্জাতিক

দুই মার্কিনকে ‘সন্ত্রাসী’ বলায় তুমুল বিতর্ক, অনড় স্বরাষ্ট্র সচিব

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত দুই মার্কিন নাগরিককে “দেশীয় সন্ত্রাসী” বলার মন্তব্য প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি তার পূর্বের অবস্থানে অনড় থাকেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জানুয়ারিতে রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি নামের ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যুর পর পূর্ণ তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই নোয়েম তাদের ‘চরমপন্থী হামলাকারী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন। পরবর্তীতে প্রকাশিত ভিডিও প্রমাণ তার বক্তব্যকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানিতে শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ডিক ডারবিন বারবার জানতে চান তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন কি না। নোয়েম জবাবে বলেন, তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই মন্তব্য করেছিলেন এবং কোনো ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহার বা ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়নের তদারকিতে থাকা নোয়েমকে শুনানিতে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। মিনিয়াপোলিসের ঘটনার পর প্রশাসন তাদের কৌশল কিছুটা পরিবর্তন করে; বৃহৎ আকারের শহরভিত্তিক অভিযান থেকে সরে এসে আরও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়। নোয়েমের অধীনে হাজার হাজার মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্ট বিভিন্ন শহরে অভিযান চালান। এতে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভ ও স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন এবং সরকারি জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলি প্রশাসনের কিছু ‘ভুল’ স্বীকার করলেও আইন প্রয়োগের সময় অভিবাসন কর্মকর্তাদের হুমকি বা ক্ষতির শিকার হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন। এদিকে, হাউস ডেমোক্র্যাটরা জানুয়ারিতে নোয়েমের বিরুদ্ধে অভিশংসন উদ্যোগ নেয়। তাদের অভিযোগ, তার নেতৃত্বে অভিবাসন এজেন্টরা মার্কিন নাগরিকদের নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন এবং কংগ্রেসের তদারকি কার্যক্রমে বাধা দিয়েছেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় এই অভিশংসন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এই ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি, নাগরিক অধিকার এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভবিষ্যতে এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে উদ্বেগ ও অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button