হরমুজ প্রণালী বন্ধ, ইউরোপে গ্যাসের দাম ৭০০ ডলার ছাড়াল…

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এই উত্তেজনার জেরে ইরানের রেভল্যুশনারী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্য হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে, যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে ইউরোপের বাজারে।
লন্ডন আইসিই-এর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী অবরোধের ঘোষণা আসার পর ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর এই প্রথম ইউরোপীয় এক্সচেঞ্জে গ্যাসের দাম প্রতি ১ হাজার ঘনমিটারে ৭০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। নেদারল্যান্ডসের টিটিএফ হাব-এ এপ্রিলের আসন্ন চুক্তির মূল্য প্রায় ৭১১ ডলারে পৌঁছেছে, যা দিনের শুরু থেকে ৩০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিভ আশঙ্কা করছেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হতে পারে এবং তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি চার সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন এক অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে।
ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেন সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ কমে গেলে ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপক হারে বাড়বে এবং উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। আইএনজি-এর কার্স্টেন ব্রজেস্কি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর ইউরোপের ব্যাপক নির্ভরতার কারণে এই যুদ্ধের জটিলতায় ইইউ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
যদিও এই পরিস্থিতি পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য সংকট তৈরি করেছে, কিছু দেশ এতে সাময়িকভাবে লাভবান হতে পারে। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জন কাভুলিচ মনে করেন, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ায় রাশিয়াসহ বেশ কিছু রপ্তানিকারক দেশের রাজস্ব বাড়বে। তিনি রাশিয়াকে এই পরিস্থিতির ‘সবচেয়ে দৃশ্যমান সুবিধাভোগী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে, ইমপ্লিমেন্টার গবেষণা পরিচালক মারিয়া বেলোভা জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাতারের তরলীকৃত গ্যাস বা এলএনজি পরিবহনে সমস্যার কারণে রাশিয়ার এলএনজি রপ্তানিকারকদের রাজস্ব বাড়বে। ফিনাম ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের বিশ্লেষক সার্গে কাউফম্যানের মতে, কাতার থেকে সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার এলএনজির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
এই মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর নির্ভর করছে ইউরোপসহ বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ। সাধারণ মানুষ এখন উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছে, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।





