ইরানে হামলা: হাসপাতাল, স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত; নীরব বিশ্ব?

ইরান জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় হাসপাতাল, স্কুল ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নির্বিচারে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, স্কুল, রেড ক্রিসেন্ট সুবিধা এবং সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।
দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছে চিঠি দিয়ে শিশুদের ওপর হামলা এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলির ক্ষতিসাধনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী নজরদারি ও সহায়তা ব্যবস্থা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে। রেড ক্রিসেন্ট স্পষ্ট করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলির কোনো সামরিক ব্যবহার ছিল না।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের গান্ধী হাসপাতালের ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) বিভাগ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে কর্মীদের জরুরিভাবে কোষ ও ভ্রূণ সরিয়ে নিতে হয়েছে। রেড ক্রিসেন্ট ভবন, খাতাম আল-আম্বিয়া হাসপাতাল, মোতাহারী হাসপাতাল (দগ্ধ রোগীদের জন্য বিশেষায়িত) এবং ভালিআসর হাসপাতালও হামলার শিকার হয়েছে। এসব হাসপাতাল থেকে রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নিতে হয়েছে বা তাদের কিছু ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া, পশ্চিম ইরানের আহভাজের আবুজর চিলড্রেন হাসপাতাল এবং পূর্ব আজারবাইজান, সিস্তান-বেলুচিস্তান ও হামেদান প্রদেশের তিনটি জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, সোমবার দুপুর পর্যন্ত দেশের ১৩১টি কাউন্টিতে হামলায় অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।
স্কুলগুলিতে হামলার চিত্র আরও ভয়াবহ। নারমাক এলাকার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত দুই শিশু নিহত হয়েছে। দক্ষিণের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিশু। কর্তৃপক্ষ দুই দিন ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর এই তথ্য জানায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধের নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা বেসামরিক হতাহতের খবর তদন্ত করছে, তবে ইসরায়েল মিনাবের স্কুল হামলার বিষয়ে কোনো তথ্য জানে না। উল্লেখ্য, এর আগে জানুয়ারি মাসের বিক্ষোভে হাসপাতালগুলিতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হামলার বিষয়ে স্বচ্ছতার আহ্বানে ইরান সাড়া দেয়নি।
ইরানের বারবার আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন তুলছে। এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে, যখন আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত।





